ফ্যামিলি কার্ডে সরকারের ব্যয় হবে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা
প্রতিনিধি
সীমান্তের খবর ডেস্ক:

ফ্যামিলি কার্ড। প্রতীকী ছবি- ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা হতে পারে।
নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা হতে পারে। মাসিক নগদ সহায়তা হিসেবে প্রতিটি উপকারভোগী পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর হিসাব ও সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা বৈঠকের তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচিটি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় উপকারভোগী নির্বাচন করে ৩৭ হাজারের বেশি পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। জুনের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৬ হাজারে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৮৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে অর্থ বিভাগকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশ সরাসরি নগদ সহায়তায় ব্যয় হবে, আর বাকি অর্থ ব্যবহৃত হবে উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ, তথ্যভান্ডার তৈরি, অনলাইন ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে।
সচিবালয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে ভবিষ্যৎ ব্যয় ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির একটি প্রক্ষেপণ তুলে ধরা হয়। বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থাপনায় দেখানো হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হতে পারে, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। পরবর্তী বছরগুলোতে উপকারভোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়িয়ে ২০২৭–২৮ সালে ৮১ লাখ, ২০২৮–২৯ সালে ১ কোটি ২১ লাখ এবং ২০২৯–৩০ অর্থবছরে ১ কোটি ৬১ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্যয়ও ক্রমান্বয়ে বেড়ে শেষ বছরে ৫৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
সামগ্রিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বছরে মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ জরিপ পরিচালনা, ডেটাবেইস গঠন, তদারকি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যয় হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে ধাপে ধাপে জরিপ চালিয়ে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। প্রতি বছর অন্তত এক কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভুলত্রুটি কমাতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটি কেবল একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়, বরং একটি মানবিক উদ্যোগ। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্পটি আরও পরিশীলিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে ঘাটতি হবে না।
