ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
স্বাস্থ্য

কাগজি লেবুর খোসাই ভিটামিন সির ভালো উৎস, মিলছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর স্বাস্থ্য ডেস্ক :

১৮ মে, ২০২৬
কাগজি লেবুর খোসাই ভিটামিন সির ভালো উৎস, মিলছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজি লেবুর খোসায় লেবুর রসের তুলনায় ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকতে পারে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়াতে কিংবা শরবত তৈরিতে কাগজি লেবুর রসই বেশি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, শুধু লেবুর রস নয়-লেবুর খোসাতেও রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজি লেবুর খোসায় লেবুর রসের তুলনায় ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকতে পারে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান জানান, লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড টক স্বাদের জন্য দায়ী হলেও ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড মূলত বেশি পাওয়া যায় লেবুর খোসায়। তবে সব লেবুর খোসা খাওয়ার উপযোগী নয়। যেসব লেবুর খোসা তুলনামূলক পুরু এবং সামান্য মিষ্টি স্বাদের, সেগুলো খাওয়ার জন্য ভালো।

লেবুর খোসার প্রধান উপকারিতা

হজমশক্তি বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

লেবুর খোসায় থাকা ‘পেকটিন’ নামের ফাইবার দ্রুত ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

লেবুর খোসায় থাকা ভিটামিন সি ও সাইট্রিক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ও জিঞ্জিভাইটিসের মতো মুখের সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর।

ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সহায়ক

ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে লেবুর খোসা খেলে ত্বক থেকে বিষাক্ত উপাদান বের হতে সাহায্য করে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শরীর ডিটক্সিফাই করে

লেবুর খোসায় থাকা ‘ডি-লেমনিন’ ও সাইট্রাস বায়োফ্লেভোনয়েড শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এটি লিভার সুস্থ রাখতেও ভূমিকা রাখে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামসমৃদ্ধ লেবুর খোসা হাড় মজবুত করতে এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

যেভাবে খেতে পারেন লেবুর খোসা

লেবুর খোসা সরাসরি বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। ঝালমুড়ি, চানাচুর, সালাদ কিংবা স্যুপে সামান্য কুচি করে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। অনেকে ভাতের সঙ্গে লেবুর রস মাখানোর পর সেই টুকরার খোসাও খেয়ে থাকেন।

ডিটক্স ওয়াটার তৈরির সহজ উপায়

২৫০ মিলিলিটার পানিতে খোসাসহ একটি লেবুর টুকরা দিয়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা ঢেকে রাখলেই তৈরি হয়ে যায় ডিটক্স ওয়াটার। চাইলে এর সঙ্গে কমলালেবু, মাল্টা, পুদিনাপাতা বা ধনেপাতা যোগ করা যেতে পারে। তবে তৈরি করার পর দ্রুত পান করাই ভালো।

সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত লেবুর খোসা খেলে কারও কারও অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। খাওয়ার পর অস্বস্তি বা পেটে জ্বালাপোড়া হলে লেবুর খোসা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

কাগজি লেবুর খোসাই ভিটামিন সির ভালো উৎস, মিলছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা | সীমান্তের খবর