ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সারাদেশ

জাল দলিলে শার্শার কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি দখলের চেষ্টা, আনোয়ার কারাগারে

প্রতিনিধি

শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাল দলিলে শার্শার কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি দখলের চেষ্টা, আনোয়ার কারাগারে

জাল দলিলে শার্শার কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি দখলের চেষ্টা, আনোয়ার কারাগারে

জাল দলিল তৈরি করে যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ার কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের ১৭ শতক জমি দখলের চেষ্টার মামলায় আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ও সাত মামলার আসামি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আনোয়ার হোসেন শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শার্শার যাদবপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া ১৯৯৫ সালের ২২ জুন ৫২১৩ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে বাগআঁচড়া মৌজার ১২৮ নম্বর জেএলভুক্ত সাবেক ২৮৬৫ ও হাল ৩৩৭৪ নম্বর দাগে ১৭ শতক জমি কেনেন। পরে জমিটি নামজারি করে সেখানে ‘কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন’ স্থাপন করেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর ধরে জমিটি ভোগদখলে রয়েছে কিবরিয়া পরিবারের।

গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বিকেলে আনোয়ার হোসেন ওই জমির মালিকানা দাবি করে একটি দলিল দেখান। তার দাবি ছিল, ১৯৯৯ সালের ৬ এপ্রিল ১৯১১/৯৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে গোলাম কিবরিয়া জমিটি তার কাছে বিক্রি করেছেন।

তবে গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুভা দলিলটি যাচাই করতে রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে দলিল নম্বরের সঙ্গে দাতা ও গ্রহীতার তথ্যের অমিল দেখতে পান। এরপর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আনোয়ার হোসেনকে কথিত দলিলের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় তনিমা তাসনুভা ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে দলিল জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি। ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই গ্রেপ্তার এড়াতে আনোয়ার হোসেন আদালতে হাজির হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। মঙ্গলবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শেয়ার করুন

জাল দলিলে শার্শার কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি দখলের চেষ্টা, আনোয়ার কারাগারে | সীমান্তের খবর