এক মুঠো খাবার আর ওষুধের আশায় বৃদ্ধ দম্পতি
প্রতিনিধি
আজিজুল ইসলাম :

এক মুঠো খাবার আর ওষুধের আশায় বৃদ্ধ দম্পতি
একজনের শরীরের একাংশ অবশ, অন্যজন হৃদরোগে আক্রান্ত। দুজনেরই নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু ঘরে খাবার নেই, ওষুধ কেনার টাকাও নেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে সরকারি জমিতে ছোট্ট একটি আশ্রয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এখন এক মুঠো খাবার আর জীবন রক্ষাকারী ওষুধের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে শার্শার সাহেব আলী (৬৪) ও তার স্ত্রী জোবেদা খাতুনকে (৬০)।
যশোরের শার্শা উপজেলার দাউদখালী গেট এলাকার এই বৃদ্ধ দম্পতির জীবন যেন অভাব আর অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে সাহেব আলী প্রায় দুই বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারান। এরপর ধরা পড়ে হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতা। এখন শরীরের একাংশ অবশ থাকায় কোনো কাজ করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়।
সংসারের একমাত্র সঙ্গী স্ত্রী জোবেদা খাতুনও সুস্থ নন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। সামান্য হাঁটাহাঁটি করলেই হাঁপিয়ে ওঠেন। তার ওপর কানে ঠিকমতো শুনতে পান না। ফলে অসুস্থ দুজন মানুষ একে অপরকে আঁকড়ে ধরেই কোনোমতে জীবন পার করছেন।
স্থানীয়রা জানান, তাদের কোনো জমিজমা নেই। সরকারি জমিতে বসবাস করেই চলছে জীবন। নিয়মিত কোনো আয় নেই। দুজনের খাবারের জোগান আসে মানুষের দয়া আর সহযোগিতায়। কখনো কেউ এক মুঠো চাল দেন, কেউ দেন সামান্য খাবার। সেই সহায়তাই তাদের বেঁচে থাকার ভরসা।
কিন্তু খাবারের চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা এখন ওষুধ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দুজনেরই নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োজন। প্রতি মাসে শুধু ওষুধ কিনতেই লাগে অন্তত ৩ হাজার টাকা। অথচ এই দম্পতির কাছে সেই টাকাই এখন অনেক বড় অঙ্ক। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জোবেদা খাতুন বলেন, “আমাদের দুজনেরই চিকিৎসা আর ওষুধ লাগে। কিন্তু ওষুধ কেনার টাকা নেই। খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হয়। কেউ যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে ওষুধ কিনে খেতে পারব। হয়তো আরও কিছুদিন বাঁচতে পারব।”
তার এই আকুতি যেন অসহায় দুজন মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আবেদন। জীবনের শেষ সময়ে এসে তাদের চাওয়া খুব বেশি নয়-নিয়মিত ওষুধ, দুবেলা খাবার আর একটু সহানুভূতি।
স্থানীয়রা জানান, সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে অসুস্থ এই দম্পতির চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। তাই তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
বিল্লাল হোসেন, গ্রাম: রুদ্রপুর, শার্শা, যশোর।
বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৭৪২৩৯৫৫৬০।
