ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশ

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমালোচনার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত-শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিনিধি

শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

১৩ এপ্রিল, ২০২৬
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমালোচনার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত-শিক্ষামন্ত্রী

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমালোচনার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত-শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিচালনা করতে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সমালোচনার মুখোমুখি হতেও কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষাখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সংসদে ‘কাঠগড়ায় দাঁড়াতেও’ তিনি প্রস্তুত।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে যশোর শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি চান সংসদ সদস্যরা নিয়মিত শিক্ষাসংক্রান্ত নোটিশ উত্থাপন করুন এবং শিক্ষা খাত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হোক। এতে করে সমস্যাগুলো স্পষ্ট হবে এবং সরকার তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রচলিত ধারা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এক মুরগি তিনবার জবাই করা যাবে না” এই উপমা টেনে তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষার্থীদের একাধিকবার ভর্তি বা রেজিস্ট্রেশনের প্রথা বন্ধ করতে হবে। একবার রেজিস্ট্রেশন করলেই শিক্ষাজীবন অব্যাহত থাকবে-এমন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরীক্ষায় নকলের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নকলের ধরনও বদলে গেছে। “করোনার ভেরিয়েন্টের মতো নকলেরও এখন নানা ভেরিয়েন্ট-ডিজিটাল নকল,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নকলের প্রবণতা তাদের দুর্বলতা নয়; বরং এটি শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। কেন শিক্ষার্থীরা নকলের দিকে ঝুঁকছে, তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে, এমনকি পরীক্ষায় অংশ নিতেও অনীহা দেখাচ্ছে-এ বিষয়টি উদ্বেগজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ট্রল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এটি উপভোগ করি। এতে বোঝা যায়, পরিবর্তনের একটি চাপ তৈরি হয়েছে।”

কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো বিষয়ে তিনি জানান, নিজ প্রতিষ্ঠানের দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহনীয় ফি নিয়ে আলাদাভাবে পড়ানোর সুযোগ থাকলেও বাইরের কোনো সেন্টারে গিয়ে কোচিং করানো যাবে না। একই সঙ্গে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মূল্যায়নে নির্দিষ্ট গবেষণা বা মানদণ্ডের অভাব রয়েছে এবং পরিচিত পরীক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন পরীক্ষক তৈরি ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, ১৯৪০ সালের বিদ্যমান আইন সংশোধন করে খাতা মূল্যায়নে র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষকদের মূল্যায়নের মান যাচাই করা যাবে এবং নম্বর প্রদানে অসঙ্গতি শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে এটি পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া নুরুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমালোচনার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত-শিক্ষামন্ত্রী | সীমান্তের খবর