অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে দ্বিতীয় দিনের মানববন্ধন
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

অধিকাল (ওভারটাইম) ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মচারীরা।
অধিকাল (ওভারটাইম) ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মচারীরা। সোমবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতির কারণে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বন্দরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া জানান, অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদ ও পুনরায় চালুর দাবিতে রোববার ও সোমবার দুই দিনব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেলে এ কর্মসূচি চলবে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা দিয়ে আসছিল। কর্মচারীরাও অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ভাতা বন্ধ করে দেয়। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই দ্রুত অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবি জানান তারা। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলন ও কর্মবিরতির হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
হাফিজুর রহমান মিয়া আরও বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০২৫ এর ধারা ৩(ক) এবং বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০০৭ এর ধারা ৩(ক, খ, গ, ঘ) অনুযায়ী প্রশাসনিক ও রাজস্ব দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত। তবে বাস্তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। এছাড়া সকাল ৬টা থেকেই আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন, প্রধান দপ্তরের ২৬ জুলাই ২০১৭ সালের এক নির্দেশনা অনুযায়ী ১ আগস্ট ২০১৭ থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। তাই সরকার নির্ধারিত সীমিত কর্মঘণ্টার মধ্যে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা বাস্তবসম্মত নয়।
