ঢাকা, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সারাদেশ

বেনাপোলে ভারতে ফেরার পথে ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীর মৃত্যু

প্রতিনিধি

কামাল হোসেন:

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বেনাপোলে ভারতে ফেরার পথে ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীর মৃত্যু

বেনাপোলে ভারতে ফেরার পথে ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীর মৃত্যু # বাস কাউন্টারের সামনে হঠাৎ অসুস্থ, রাত ৮টায়ও চেকপোস্টে পড়ে ছিল মরদেহ

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গৌতম মিস্ত্রি (৫৬) নামে এক ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সংলগ্ন জিএম বাস কাউন্টারের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত গৌতম মিস্ত্রি ভারতের কলকাতার কল্যাণ নগরের সূর্য সেন পল্লির বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর-টি ৩৩৬১৬১১।

গত ২২ আগস্ট স্ত্রী ঝরনা মিস্ত্রিকে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর তারা বরিশালে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অবস্থান শেষে বুধবার সকালে ভারতে ফেরার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল থেকে জিএম পরিবহনে বেনাপোলে আসেন গৌতম। বাস থেকে নামার পর জিএম বাস কাউন্টারের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। একপর্যায়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে ওই যাত্রীকে মৃত পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, স্বামীর মরদেহ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিহতের স্ত্রী। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে একটি ভ্যানের ওপর কফিনবন্দি গৌতম মিস্ত্রির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নিহতের স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, স্বামীর মরদেহ ভারতে নিয়ে গিয়ে সৎকার করতে তিনি চেকপোস্টে অবস্থান করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় মরদেহ নিয়ে ভারতে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ নিয়ে চেকপোস্ট এলাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ওই নারীর অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয়দের কাছ থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রায় ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ভারতে ফেরার প্রাথমিক ব্যবস্থা করতে কিছুটা সহায়তা হবে বলে তারা জানান।

বেনাপোল চেকপোস্টে এ বিষয়ে ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) সাইফুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ ভারতে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মরদেহটি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের হিমঘরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে মরদেহ ভারতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার করুন