সন্তানের মুখে ‘বাবা’ ডাক শোনার আগেই না ফেরার দেশে সেনাসদস্য ছিদ্দিক
প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদক:

সন্তানের মুখে ‘বাবা’ ডাক শোনার আগেই না ফেরার দেশে সেনাসদস্য ছিদ্দিক
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর ছিদ্দিক পিয়াসের নোয়াখালীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কয়েক দিন আগে সন্তানের বাবা হয়েছিলেন তিনি। অথচ সদ্যোজাত সন্তানের মুখে ‘বাবা’ ডাক শোনার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই তরুণ সেনাসদস্য।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি ও শোকের পরিবেশ দেখা যায়। নিহত আবু বকর ছিদ্দিক ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন ছিদ্দিক। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন তিনি। কয়েক দিন আগেই তাঁর ঘর আলো করে আসে সন্তান। সন্তান জন্মের আনন্দ কাটতে না কাটতেই আকস্মিক এই মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের ছিলেন ছিদ্দিক। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা ও সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে এলাকায় তাঁর বেশ সুনাম ছিল। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও শোকাহত।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলছিল। এ সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আবু বকর ছিদ্দিকসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। দুর্ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তাঁর চলে যাওয়ার বিষয়টি হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
