ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চোখের জলে বিদায় নিলেন সোহরাব স্যার
প্রতিনিধি
আলমগীর হোসেন

ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চোখের জলে বিদায় নিলেন সোহরাব স্যার
প্রিয় শিক্ষকের বিদায়বেলায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অনেক শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে যে শিক্ষক গণিতের পাঠ দিয়েছেন, শাসন আর স্নেহে গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, সেই প্রিয় সোহরাব স্যারকে আর প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে পাবেন না তাঁরা। বিদায়ের মুহূর্তে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের আবেগে ভারী হয়ে ওঠে যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণিতের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ সোহরাব উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিদায়ী বক্তব্যে সোহরাব উদ্দিন বলেন, “আমার শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আজ বিদায় নিতে হচ্ছে। শিক্ষকতা জীবনে আমি কখনো স্কুল কামাই করিনি। আমার আত্মীয়-স্বজন মারা গেলেও আমি সবসময় স্কুলে এসেছি। তোমরা যারা আছো, সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে। আমি যদি কখনো কোনো অন্যায় করে থাকি, আমাকে ক্ষমা করে দিও।”
তাঁর এই কথায় ফুটে ওঠে পেশার প্রতি দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর অবদান ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি হয় শূন্যতা, আর সহকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয় দীর্ঘদিনের পথচলার স্মৃতিকাতরতা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শার্শা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম শাখির উদ্দিন।
ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাস্টার সাহেব আলী।
এ সময় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নুরুল ইসলাম, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, শার্শা উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মিয়াদ আলী, সহসভাপতি সাফা উদ্দিন খাঁ, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমানসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদায়ী শিক্ষক সোহরাব উদ্দিনের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি ঘটলেও শিক্ষার্থীদের কাছে সোহরাব উদ্দিন স্যারের শিক্ষা, স্নেহ ও শাসনের স্মৃতি থেকে যাবে দীর্ঘদিন। হয়তো আর প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে শোনা যাবে না তাঁর পরিচিত কণ্ঠ, বোর্ডে তুলে ধরে বুঝিয়ে দেওয়া হবে না গণিতের কঠিন অঙ্ক। তবে তাঁর হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের জীবনে ছড়িয়ে থাকবে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ।
