ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশ

দরবারপ্রধানকে পিটিয়ে হত্যা: “এখনো বেঁচে আছে, মারো”-হামলাকারীদের নৃশংসতা

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর ডেস্ক:

১২ এপ্রিল, ২০২৬
দরবারপ্রধানকে পিটিয়ে হত্যা: “এখনো বেঁচে আছে, মারো”-হামলাকারীদের নৃশংসতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে আব্দুর রহমান শামীম (৫২) নামে এক দরবারপ্রধানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামে আব্দুর রহমান শামীম (৫২) নামে এক দরবারপ্রধানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে একদল হামলাকারী তার আস্তানায় হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার সকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দরবারের খাদেম জামিরন নেছা জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল মিছিল করে দরবারের দিকে আসে। তাদের হাতে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা দ্রুত দরবারে ঢুকে পড়ে এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

তিনি জানান, হামলাকারীরা শামীমকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। প্রথমে আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অনেকেই ভেবেছিল তিনি মারা গেছেন। কিন্তু তখনই হামলাকারীদের একজন চিৎকার করে বলে-“এখনো বেঁচে আছে, মারো!” এরপর তারা আবারও তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কোনো কথা বলেননি, শুধু ধর্মীয় জিকির করছিলেন।

স্থানীয়দের মতে, হামলাকারীদের বেশিরভাগই তরুণ এবং তারা আশপাশের এলাকা থেকেই এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও নির্দিষ্টভাবে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দরবার ও আশপাশে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শামীম প্রায় ১২ বছর সাধনা করার পর ২০২০ সালে ফিলিপনগরে দরবার স্থাপন করেন এবং তিনি জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর অনুসারী ছিলেন।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি জয়েন উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।

শেয়ার করুন