ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সারাদেশ

যশোরে বহুল প্রত্যাশিত ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর ডেস্ক:

২৪ এপ্রিল, ২০২৬
যশোরে বহুল প্রত্যাশিত ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে

যশোরে বহুল প্রত্যাশিত ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে

যশোরে বহুল প্রত্যাশিত ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ হাসপাতাল চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

২০০৬ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদনের পর শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে হরিণার বিল এলাকায় প্রায় ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়। তবে দীর্ঘদিন হাসপাতাল না থাকায় চিকিৎসা ও শিক্ষাকার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা ছিল।

এই প্রেক্ষাপটে আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি ৫০০ শয্যার এই হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও আবাসন, স্টাফ নার্স ডরমেটরি, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কোয়ার্টার, ৫০০ আসনের অডিটোরিয়াম, মসজিদ এবং বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবু হাসনাত মো. আহসান হাবীব বলেন, “হাসপাতালটি চালু হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সহজ হবে।”

মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজোনা পারভিন বলেন, “বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপের জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হয়, যা আমাদের জন্য ভোগান্তির। নিজস্ব ক্যাম্পাসে হাসপাতাল চালু হলে এই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।”

যশোর মেডিকেল কলেজ ৫০০ শয্যা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, “করোনা মহামারির সময় এই হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এসেছে।”

২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের জুনে কাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে তা দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালটি চালু হলে যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

শেয়ার করুন