প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলসী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলসী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলসী খাল নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই জিয়ার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
এর আগে সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী খননস্থলে পৌঁছে খালের পাড়ে নির্মিত উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। ফলক উন্মোচনের পর তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উলসী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। খালটি মূলত বেতনা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিন পলি জমে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় শার্শা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে, যা কৃষি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল।
উদ্বোধনী ফলকে উল্লেখ করা হয়েছে- “যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন উলসী খাল (জিয়ার খাল) পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন জনাব তারেক রহমান এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬।”
একই স্থানে সংরক্ষিত আরেকটি ফলকে খাল খননের ঐতিহাসিক সূচনার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা ‘গণযোগ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। লেখা আছে, “গণযোগ” উলসী-যদুনাথপুর-বেতনা নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক গণ-উপযোগ অনুগামী প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে উদ্বোধন করলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, “উলসী গ্রাম, যশোহর”। ১ নভেম্বর’ ১৯৭৬।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে শার্শা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল নিয়ে এই খাল খননের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে স্বল্প সময়ে খালটি খনন সম্পন্ন হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে সময়ের ব্যবধানে খালটি ভরাট হয়ে কার্যকারিতা হারাতে থাকে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভোর থেকেই শার্শা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খননস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনেকের হাতে ছিল গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল। তারা প্রধানমন্ত্রীর এক ঝলক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রধানমন্ত্রী খালে নেমে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলে জনতা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি পুনঃখনন হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং শুকনো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ৫০ বছর আগে যে খালটি একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর পর সেই মৃতপ্রায় খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন তাঁরই সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
যশোর জেলা প্রশাসক আশেক মাহমুদ, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু প্রমুখ।
