সন্তানের আবদারে বাইক কিনে দিলেন বাবা, চার মাসেই থেমে গেল মাহির জীবনের পথচলা
প্রতিনিধি
সীমান্তের খবর ডেস্ক:

সন্তানের আবদারে বাইক কিনে দিলেন বাবা, চার মাসেই থেমে গেল মাহির জীবনের পথচলা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কলেজছাত্র আফতাব শাহরিয়ার মাহির (২০)। বন্ধুদের মতো একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কাছে আবদার করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত একমাত্র সন্তানের ইচ্ছা পূরণ করতে বাবা মোটরসাইকেল কিনে দিলেও মাত্র চার মাসের মধ্যেই সেই বাইক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার সকালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির নান্দাইল উপজেলার মুসল্লী গ্রামের আবদুল কাইয়ুমের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মোটরসাইকেলে করে হারুয়া এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন মাহির। পথে চরহোসেনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাহিরের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা জানান, বন্ধুদের প্রায় সবার মোটরসাইকেল থাকায় তিনিও একটি বাইক চেয়েছিলেন। প্রথমে বাবা রাজি না হলেও ছেলের অনুরোধে চার মাস আগে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন।
মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে শোকে ভেঙে পড়েন মাহিরের বাবা আবদুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, ছেলের আনন্দের জন্যই মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন, কিন্তু সেটিই যে এমন মর্মান্তিক পরিণতির কারণ হবে, তা কখনও ভাবেননি।
অন্যদিকে মাহিরের নানি জানান, সকালে নাতির জন্য খাবার তৈরি করে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই খাবার আর খাওয়া হলো না তাঁর।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ মোশারফ বলেন, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং মোটরসাইকেল চালনায় সর্বোচ্চ সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে।
