ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এক মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা
ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করলেও আলোচনার পর তা এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের আশ্বাসে রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।
এর আগে সকালে বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বেনাপোল স্থল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৮৯১ ও ৯২৫-এর সদস্যরা।
কর্মসূচির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০১২ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকরা পেতেন মাত্র ১৮ টাকা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর বর্তমানে সেই হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি অপরিবর্তিত রয়েছে।
তাদের দাবি, বর্তমান বাস্তবতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানুয়াল শ্রমিকদের মজুরি ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক ইউনিয়ন-৮৯১-এর সভাপতি মাসুদুর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক লিটন, এবং ইউনিয়ন-৯২৫-এর সভাপতি তবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী।
পরে শ্রমিক প্রতিনিধি, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
আলোচনা শেষে শ্রমিক নেতারা জানান, সরকারের চলমান বাজেট প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয়ের সুযোগ দিতে তারা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ এর সাধারণ সম্পাদক শহিদ আলী বলেন, “আমরা এক মাস সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তখন অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ধরনের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।”
এদিকে আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পর বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং পণ্য খালাস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ায় এখানে শ্রমিক কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাই দ্রুত শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতারা।
