ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সারাদেশ

বেনাপোলে জমি অধিগ্রহণের ৩ বছর পরও ক্ষতিপূরণ পাননি মালিকরা-জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি

প্রতিনিধি

কামাল হোসেন:

বেনাপোলে জমি অধিগ্রহণের ৩ বছর পরও ক্ষতিপূরণ পাননি মালিকরা-জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি

বেনাপোলে জমি অধিগ্রহণের ৩ বছর পরও ক্ষতিপূরণ পাননি মালিকরা-জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি

বেনাপোল স্থলবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরুর প্রায় তিন বছর পার হলেও এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা। দীর্ঘসূত্রতার কারণে জমি ও স্থাপনা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর। দ্রুত অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের দাবিতে যশোর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্প্রসারণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর পর নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমিতে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ, সংস্কার, ভাঙা বা পরিবর্তনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

কিন্তু প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে জমির মালিকরা নিজেদের জমি ও সেখানে থাকা দোকানপাট স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। অনেকেই দোকানপাট ভাড়া দিয়েও আয় করতে পারছেন না। অন্যদিকে, এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের জানানো হয়, জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ইতোমধ্যে যশোর জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। এরপরও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ করা হয়নি।

তাদের দাবি, ‘অধিগ্রহণ আইন, ২০১৭’-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী অধিগ্রহণকারী সংস্থার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হয়নি।

এতে একদিকে জমির মালিকরা নিজেদের সম্পত্তি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না, অন্যদিকে ক্ষতিপূরণের অর্থও না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশাও বাড়ছে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের পক্ষে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শেয়ার করুন