ভারতে আটক ২ বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে স্বদেশে ফেরত
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল :

ভারতে আটক দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায়
ভারতে আটক দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন (আইসিপি) পুলিশ পৃথকভাবে তাদেরকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এসময় উভয় দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে ফেরত আসা নারীরা হলেন-ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ এলাকার বড়গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার হোসেনের মেয়ে হাসনায়ারা ওরফে নূপুর (১৮) ও খুলনা জেলার সদর থানার দিলখোলা এলাকার বাসিন্দা হারুন মোল্লার মেয়ে ফারজানা আক্তার ওরফে রোকাইয়া হাওলাদার আকা (৩৫)।
ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, মুম্বাইস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে ফারজানা আক্তার এবং চেন্নাইস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে হাসনায়ারা ওরফে নূপুরকে ট্রাভেল পারমিট ও এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করার অনুমতি দেওয়া হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশে প্রেরণ করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদেরকে গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, ভালো কাজের উদ্দেশ্যে এরা দালালের প্রলোভনে পড়ে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিল। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তারা পুলিশের কাছে আটক হলে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। ৮মাস থেকে প্রায় দুইবছর সাজাভোগ শেষে তাদেরকে চেন্নাই ও মুম্বাই জেল থেকে মুক্ত করে সেখানকার সেল্টার হোমে আশ্রয় হয়। অবশেষে দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপে ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রক্রিয়ায় এরা দেশে ফেরার অনুমতি পায়। দেশে ফেরার পর সকল প্রক্রিয়া শেষ প্রান্তে। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে নিজেদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা গ্রহণ করবেন।
