ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর ডেস্ক:

১৫ এপ্রিল, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে অবরোধ জারি রেখেছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে একই সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে-ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অবরোধ চলমান থাকলেও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি দেয়নি তেহরান। এতে করে কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, সেটিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে, তাদের কঠোর নজরদারির কারণে এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারেনি। কিন্তু স্বাধীন বিশ্লেষণ ও স্যাটেলাইট তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অবরোধের মধ্যেও কয়েকটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এতে করে অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, জাহাজের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা বা বিভ্রাট, এবং ভৌগোলিক জটিলতা-সব মিলিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আর কোনো শিথিলতা দেওয়া হবে না। পূর্বে যে সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে এটিকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” ও “বিপজ্জনক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যেন আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক শৃঙ্খলা থেকে সরে গিয়ে শক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত এক অনিশ্চিত ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রান্তে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ইসরায়েল ও লেবানন আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকে দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা, অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ-এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে, যা নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে। তথ্যসূত্র:বিবিসি

শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা | সীমান্তের খবর