ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক

ভারতে প্রথম পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি পাওয়া হরিশ রানার মৃত্যু

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর ডেস্ক :

২৪ মার্চ, ২০২৬
ভারতে প্রথম পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি পাওয়া হরিশ রানার মৃত্যু

ভারতে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু (প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া) সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ভারতে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু (প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া) সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো হরিশ রানার ক্ষেত্রে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেয়। আদালতের নির্দেশনার পর তাকে দিল্লির এইমসে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে তার জীবনরক্ষাকারী সাপোর্ট ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়।

৩২ বছর বয়সী হরিশ রানা দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় ছিলেন। ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটেকের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি হোস্টেলের চতুর্থ তলার বারান্দা থেকে পড়ে গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত পান। এরপর থেকে তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কৃত্রিম পুষ্টি ও মাঝে মাঝে অক্সিজেন সাপোর্টের ওপর নির্ভর করে বেঁচে ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির কোনো সম্ভাবনা না থাকায় পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়।

চলতি মাসের ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হরিশ রানার চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দেন। আদালত নির্দেশ দেয়, সম্পূর্ণ চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে এবং রোগীর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে যেন লাইফ সাপোর্ট ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ১৫ মার্চ থেকে তার তরল খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকে পানি দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়। সব প্রক্রিয়া কঠোর চিকিৎসা নির্দেশনা মেনে সম্পন্ন করা হয়।

অবশেষে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা শারীরিক কষ্টের অবসান ঘটে হরিশ রানার মৃত্যুর মাধ্যমে।

ভারতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। হরিশ রানার এই ঘটনা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন