ইরানের সঙ্গে বৈঠকের আশায় যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
প্রতিনিধি
সীমান্তের খবর ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা চুক্তি নিয়ে তেহরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন।
মায়ামিতে এক অনুষ্ঠানে উইটকফ বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি আলোচনার জন্য অনুকূল দিকে এগোচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং সাম্প্রতিক কিছু কূটনৈতিক অগ্রগতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স)
একই সুর শোনা গেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যেও। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তিনি দাবি করেন, স্থলবাহিনী ছাড়াই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব এবং বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে না-বরং “সপ্তাহের মধ্যে” উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি)
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় সেনারা ঘাঁটির একটি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে, সিবিএস নিউজের এক সূত্র আগে আহতের সংখ্যা ১০ জন বলে জানিয়েছিল।
(তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস)
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, এই হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয় এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী কয়েকটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
(তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স)
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সফলভাবে এগিয়ে চলছে। মায়ামিতে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এফআইআই) ফোরামে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চূর্ণ করছে” এবং ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। যদিও এই দাবির বিপরীতে নিরপেক্ষ সূত্রগুলো ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরছে।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি)
ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো-যেমন ইস্পাত কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে।
(তথ্যসূত্র: ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়া, বিবিসি)
ইরানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। আরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থা, যদিও এতে কোনো তেজস্ক্রিয় দূষণ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি ভেরিফাই, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা)
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সৌদি আরবও রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। কুয়েত ও বাহরাইনও ড্রোন প্রতিরোধের কথা জানিয়েছে।
(তথ্যসূত্র: রয়টার্স, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়)
এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে রাশিয়াও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় দেশই আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই সংকট নিরসনের পথ খুঁজতে আগ্রহী।
(তথ্যসূত্র: রয়টার্স, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)
সব মিলিয়ে একদিকে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের আশাবাদ, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা-এই দ্বৈত পরিস্থিতির মধ্যে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। চলতি সপ্তাহে আলোচনার অগ্রগতি হলে তা পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
